স্বাস্থ্য

কিডনী সুস্থ রাখার ৭টি কৌশল


শরীরের রক্ত থেকে বর্জ্য পদার্থ মূত্র আকারে বের করে দেওয়ার কাজ করে কিডনী। তাই কিডনী ক্ষতিগ্রস্থ হলে বা নষ্ট হয়ে গেলে রক্তের দুষিত পদার্থ রক্তেই জমা হয়ে রোগীকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিতে পারে।

পরিবারে উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস থাকলে কিডনি দ্রুত নষ্ট হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। এমনকি এই সব রোগের ছোঁয়া না থাকলেও সতর্ক না থাকলে যে কোন সময়ে কিডনির ক্ষতি হওয়া শুরু হতে পারে। তাই কিডনি রক্ষায় সব সময়ই সচেতনতা আবশ্যক।

যে কোন বয়সেই কিডনীর কার্যক্রম ঠিক রাখার জন্যে নীচের পদ্ধতিগুলো অবলম্বন করতে পারেন। মনে রাখতে এটা একটা নিয়মিত প্রসেস।

১. দৈনিক পর্যাপ্ত পরিমানে পানি পান করুন, তবে অতিরিক্ত নয়। প্রয়োজনের থেকে কম পানি পান যেমন কিডনীর জন্যে ক্ষতিকর তেমনি বেশী পানি পান করলেও তা কিডনীর কাজের উপরে চাপ তৈরী করে। একজন সুস্থ মানুষের জন্যে অন্যান্য খাবারের বাইরে প্রতিদিন ৪ থেকে ৬ গ্লাস পানি পান করাই যথেষ্ট। এ ব্যাপারে নেফ্রোলজিস্ট James Simon, MD বলেছেন, যদিও অনেকে এটি বিশ্বাস করে, কিন্তু প্রয়োজনের অতিরিক্ত পানি কিডনীর কোন উপকারে আসে না।

২. স্বাস্থ্যকর খাবার খান। নেফ্রোলজিস্ট James Simon, MD বলেছেন, স্বাভাবিক ভাবে কিডনি বিভিন্ন ধরনের খাবার সহ্য করতে পারে। কিন্তু যেহেতু উচ্চ রক্তচাপ ও অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিসে কিডনী ক্ষতিগ্রস্ত হয়, সেহেতু উক্ত রোগে নিষিদ্ধ/অনিয়ন্ত্রিত খাবার অবশ্যই কিডনীর জন্যে ক্ষতিকর।

৩. নিয়মিত ব্যায়াম করুন। সুস্থ অবস্থাতেও নিয়মিত ব্যায়াম করা একটি ভালো অভ্যাস। ক্রনিক অসুস্থতায় ডাক্তারের পরামর্শ মতো ব্যায়াম করুন। নিয়মিত ব্যায়াম ওজন বৃদ্ধি ও উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রনে সহায়ক। অভ্যাস ছাড়া ব্যায়াম আরম্ভ করলে শুরুতে অল্প অল্প প্রাকটিস করতে হয়। শুরুতেই একবারে বেশী ব্যায়াম মাসলের ক্ষতি করতে পারে।

৪. ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া ঔষধ, ভিটামিন, ও ভেষজ  ঔষধ গ্রহনে সতর্ক থাকুন। অতিরিক্ত ঔষধ, ভিটামিন ও ভেষজ শরীরের ক্ষতি হতে পারে। আর অতিরিক্ত জিনিস যেহেতু কিডনী দিয়ে বের হয়ে যায় তাই তা কিডনীতেও প্রভাব রেখে যায়।

৫. ধুমপানের অভ্যাস থাকলে ত্যাগ করুন। ধুমপানে রক্তনালী ও রক্তজালিকা ক্ষতিগ্রস্থ হয়। এতে কিডনীতে রক্ত সরবরাহ কমে যেতে পারে। এরফলে স্বাভাবিক ভাবেই কিডনীল কার্যকারিতা কমে যাবে। এছাড়া ধুমপানের ফলে উচ্চ রক্তচাপ বেড়ে যায় যা কিডনীর জন্যে মারাত্মক ক্ষতিকর।

৬. প্রেসক্রিপশন ছাড়া ঔষধ ব্যবহার করবেন না। বিশেষ করে জ্বর ও মাথা বাথায় অহরহ আমরা নাপা, প্যারাসিটামল সহ বিভিন্ন ব্যাথা নাশক ঔষধ ব্যবহার করি। কিডনি সুস্থ থাকলে মাঝে মাঝে (খুবই কম) এ সব ঐষধ ব্যবহারে হয়তো সমসা হবে না। কিন্তু কিডনীতে আগে থেকেই সমসা থাকলে বা নিয়মিত এ সব ঔষধ সেবন করা হলে তা কিডনী নষ্ট করে দিতে পারে। এ ক্ষেত্রে ডাক্তারের পরামর্শে ব্যাথা নিরাময়ে বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহন করতে হবে।

৭. কিডনী ইতিমধ্যেই কিছুটা ক্ষতিগ্রস্থ হয়ে থাকলে বা উচ্চরক্তচাপ, ডায়াবেটিস থাকলে ডাক্তারের পরামর্শ মতো  নির্দিষ্ট বিরতিতে  কিডনীর কার্যকারিতা পরীক্ষা করতে হবে।

কিডনী বিষয়ে সতর্ক থাকুন। সুস্থ থাকুন।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।