রহস্য

বাল্টিক সাগরের রহস্যময় চাকতি

২০১১ সালের এপ্রিল মাসের কথা। ওসান এক্স (Ocean X) নামে এক সুইডেনের গুপ্তধন সন্ধানী গ্রুপ (Peter Lindberg and his group) বাল্টিক সাগরের তলায় পুরানো ডুবে যাওয়া জাহাজ খুঁজতে গিয়ে রহস্যময় এক বস্তুর সন্ধান পান। ৭০ মিটার (২১০ ফুট) দৈর্ঘ্যের ডিম্বাকৃতি এ বস্তুটি পানির ১০০ মিটার (৩০০) নীচে ডুবন্ত অবস্থায় রয়েছে। এটি দেখতে কোনভাবেই প্রাকৃতিকভাবে সৃষ্ট মনে হয় না। এছাড়া এটির পিছনে প্রায় ১০০০ মিটার জুড়ে ছেঁচড়ে যাওয়ার দাগ রয়েছে। যা দেখলে মনে হয় এটি উপর থেকে তীব্র গতিতে পানিতে পড়ে অনেকদূর গিয়ে থেমেছে। হয়তো হাজার হাজার বছর আগের কোন এক সময়ে মহাশূণ্য থেকে এটি পতিত হয়েছে।

বাল্টিক সাগরের রহস্য

বাল্টিক সাগরের এ রহস্যময় বস্তুটি আসলে কি তা এখন পর্যন্ত সুনির্দিষ্টভাবে নির্ণয় করা সম্ভভ না হলেও বিভিন্নজনে বিভিন্ন মতামত দিয়েছেন। ডুবুরিরা এই রহস্যময় কালো বস্তু থেকে কিছু টুকরো তুলে এনে বিজ্ঞানীদের হাতে তুলে দেন।

Volker Brüchert নামে স্টকহোম ইউনিভার্সিটির এক প্রফেসর জানান, “বাল্টিক সাগরের তলার রহস্যময় কালো বস্তু থেকে পাওয়া টুকরোগুলো কোন আগ্নেয়শিলা হতে পারে। আমার ধারনা এটি হাজার বছর আগের বরফ যুগে সৃষ্ট কোন বস্তু যা গ্লেসিয়ারের মাধ্যমে বাল্টিক সাগরে গিয়ে পড়েছে। টুকরোগুলোর মধ্যে লিমোনাইট ও জিওথাইট পাওয়া গিয়েছে যা প্রকৃতিতে তৈরী হতে পারে।”

তবে পর্যবেক্ষকদের মতে, রহস্যময় বস্তুটির পিছনের লম্বা গভীর টেনে নেওয়ার চিহ্ন প্রমান করে এটির প্রবল বেগে পতন হয়েছে। ধীরে ধীরে সরে যায় নি। আর সেই ডুবুরী দলের আরেকটি বর্ননা রহস্যকে আরও গভীর করেছে।

Stefan Hogerborn, ওসান এক্স গ্রুপের এস সদস্য বলেন যে তাদের ইলেকট্রিক যন্ত্রপাতি সেই রহস্যময় বস্তুর ২০০ মিটারের ভিতরে যাওয়ার পরপরই বন্ধ হয়ে যায়। আবার যখন তারা ২০০ মিটার দূরে চলে আসেন তখন আবার সেগুলো কাজ শুরু করে। একাধিকবার টেস্ট করে তারা একই ফল পেয়েছেন। এছাড়া সিড়ির মতো কিছু ধাপ ও অন্যান্য আকৃতি প্রকৃতিতে সাধারন ভাবে তৈরী হওয়ার কোন কারন নেই।

বাল্টিক সাগর

তথ্যসূত্র , ,

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।