রহস্য

এডমিরাল পিরি রইসের রহস্যময় মানচিত্র

১৫১৩ খৃষ্টাব্দে তুর্ক-ওসমানী সাম্রাজ্যের নৌবাহিনী গোয়েন্দা বিভাগের এক এডমিরাল পীরি রইস (পূর্ন নাম হাজী মুহিদ্দীন পীরি ইবনে হাজী মেহমেদ) পৃথিবীর একটি ম্যাপ তৈরী করেন। ম্যাপটির বৈশিষ্ট্য হলো এতে ইয়োরোপ ও আফ্রিকার পশ্চিম উপকুল, ব্রাজিলের উপকুলভাগ যতটুকু নিখূঁত ভাবে প্রদর্শন করা হয়েছে যা সে সময়ের জ্ঞান সাপেক্ষে অসম্ভব একটি কাজ। পীরি রইসের আঁকা ম্যাপটি পুরোপুরি পাওয়া যায়নি। ১৯২৯ সালে তুরষ্কের ইস্তাম্বুল শহরে অবস্থিত তোপকাপি প্রাসাদ থেকে ম্যাপটির খন্ডাংশ উদ্ধার করা হয় (উপরে ছবি দ্রষ্টব্য)।

পীরি রইসের মাপে কয়েকটি আশ্চর্য বিষয় –

১. এই ম্যাপে এন্টার্কটিকা (দক্ষিনমেরু) মহাদেশের বরফাবৃত কয়েকটি পাহাড়শ্রেণী প্রায় নির্খুত ভাবে আকা হয়েছে। অথচ তখনও এ্যন্টার্কটিকা মহাদেশের কথা কেউ জানতোই না। এন্টার্কটিকা মহাদেশ এতটাই পুরু বরফস্তরের নীচে চাপা পড়ে আছে যে শুধুমাত্র সাম্প্রতিক টেকনোলজি ব্যবহার করেই এতটা নিখূঁত (বরফমুক্ত) ম্যাপ আকা সম্ভব। কিছুদিন আগে এন্টার্কটিকার বরফের নীচে থাকা পাহাড়শ্রেণীর মানচিত্র আঁকা হয়েছে প্রতিধ্বনি পরিমাপক যন্ত্রের সাহায্যে। তাহলে পীরি রইস তার  ম্যাপে দক্ষিন মেরুর আইটলাইন কিভাবে আকলেন?

২. পীরি রইসের ম্যাপে দক্ষিন মেরুতে বরফ দেখানো হয় নি। অথচ দক্ষিন মেরু বরফমুক্ত ছিল প্রায় ৬০০০ বছর পূর্বে।

৩. কৃত্রিম উপগ্রহ থেকে তোলা পৃথিবীর বিভিন্ন জায়গার ছবির সঙ্গে নাকি অদ্ভুত মিল আছে পীরি রইসের ম্যাপের। ওপরের আকাশ থেকে পৃথিবীর ছবি তুললে নির্দিষ্ট ব্যাসার্ধের বাইরের  ছবি অদ্ভুতভাবে বেঁকে যায়। লেন্সের কাছ থেকে দূরত্ব যার যত বেশি সেটা তত বাঁকা হয়। পীরি রইসের ম্যাপেও কিন্তু ঠিক তাই ঘটেছে। দূরবর্তী আমেরিকা মহাদেশের আইটলাইন বেঁকে গিয়েছে সেখানে। এটা কিভাবে ঘটলো? মনে রাখতে হবে পীরি রইস আগেকার কিছু মানচিত্রের সাহায্য নিয়ে তার মানচিত্রটি এঁকেছিলেন। তিনি যেখান থেকে সাহায্য নিয়েছিলেন সেই মানচিত কারা একেছিলো? সেগুলো কি মহাকাশ তোলা কোন ছবি ছিলো? আর যেহেতু সেখানে দক্ষিন মেরুতে বরফ দেখা যায় নি তাহলে সেই ছবি কি ৬০০০ ্ববছর আগে (২) মহাশূণ্য থেকে  তোলা কোন ছবি ??

পীরি রইসের ম্যাপ নিয়ে তৈরী রহস্এযের সমাধান আজও হয় নি। এটা একটা অমীমাংসিত রহস্য হিসেবেই রয়ে গেছে।

উইকিপিডিয়া পিরি রইসের ম্যাপ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।